আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা জানুন

আপনি যদি আউটসোর্সিংয়ের সুবিধা ও অসুবিধা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নিতে চান, তাহলে আপনি একদম সঠিক জায়গায় এসেছেন। বর্তমান ডিজিটাল যুগে আউটসোর্সিং একটি বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় কাজের মাধ্যম।
অনেক সময় কোনো কোম্পানি নিজের অফিসের কর্মী বা নিয়মিত স্টাফ দিয়ে কাজ না করিয়ে, বাইরে থাকা দক্ষ ও অভিজ্ঞ মানুষের কাছে সেই কাজের দায়িত্ব দেয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ শেষ করতে পারে। আউটসোর্সিংয়ের এই পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে এবং এতে কী কী সুবিধা বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেগুলো জানার জন্য এখন আমরা বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো। তাহল দেখি চলুন আউটসোর্সিং এর সুবিধা ও অসুবিধা কি কি ও আউটসোর্সিং নিয়ে আরো বিস্তারিত  ভাবে ।
সূচিপত্র

আউটসোর্সিং এর সুবিধা

  1. কাজের সুযোগ সৃষ্টি করে
    আউটসোর্সিংয়ের কারণে অনেক মানুষ ঘরে বসেই আয় করার সুযোগ পাচ্ছে, যা কর্মসংস্থানের একটি বড় মাধ্যম।
  2. অবস্থান কোনো বাধা নয়
    শহর বা গ্রামে যেখানেই থাকুন, ইন্টারনেট থাকলেই কাজ করা সম্ভব।
  3. অতিরিক্ত খরচ কম
    অফিস, স্টাফ বা যন্ত্রপাতির বড় বিনিয়োগ ছাড়াই কাজ শুরু করা যায়।
  4. আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা
    দক্ষতা বাড়ার সাথে সাথে আয়ও বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের ক্ষেত্রে।
  5. নিজের সময়ের স্বাধীনতা
    নির্দিষ্ট অফিস টাইম নেই, নিজের সুবিধামতো সময় নির্বাচন করা যায়।
  6. শিক্ষার পাশাপাশি কাজ
    ছাত্র-ছাত্রীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে।
  7. দক্ষতা উন্নয়ন
    নিয়মিত কাজের মাধ্যমে নতুন স্কিল শেখা ও নিজেকে আপডেট রাখা যায়।

আউটসোর্সিং এর অসুবিধা

  1. শুরুতে কাজ পাওয়া কঠিন
    নতুনদের জন্য প্রথমদিকে ক্লায়েন্ট পাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং।
  2. প্রতিযোগিতা বেশি
    বিশ্বজুড়ে অসংখ্য ফ্রিল্যান্সার থাকায় প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি।
  3. আয়ের নিশ্চয়তা নেই
    সব সময় নিয়মিত কাজ পাওয়া যায় না, ফলে আয় অনিশ্চিত হতে পারে।
  4. দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে কাজ
    অনেকক্ষণ কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহারের কারণে শারীরিক সমস্যা হতে পারে।
  5. ক্লায়েন্ট নির্ভরতা
    কিছু ক্ষেত্রে ক্লায়েন্টের সিদ্ধান্তের উপর পুরো কাজ নির্ভর করে।

আবার অসুবিদা

  1. আউটসোর্সিংয়ের কাজের সময় অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধরে কম্পিউটার বা ল্যাপটপের সামনে বসে থাকতে হয়।
  2. কখনও কখনও পেমেন্ট প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে।
  3. যে কাজটি আউটসোর্স করতে হবে, সঠিক দক্ষ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া প্রায়ই চ্যালেঞ্জের মতো হয়ে দাঁড়ায়।
  4. কাজের নিরাপত্তা ও পেমেন্ট নিশ্চিত করতে বিশ্বস্ত মাধ্যম ব্যবহার করা জরুরি।
  5. বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম না থাকলে কাজ সম্পন্ন হলেও পেমেন্টে বিলম্ব হতে পারে।
  6. মাঝে মাঝে আউটসোর্সিংয়ের খরচ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
  7. অর্থনৈতিক লাভ থাকলেও কখনও অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
  8. যদি কাজের মান পর্যাপ্ত না হয়, তবে এটি গ্রহণযোগ্য হয় না এবং পেমেন্ট সমস্যা তৈরি করে।

আউটসোর্সিং নীতিমালা

আউটসোর্সিং নীতিমালা হলো সেই নিয়ম ও দিকনির্দেশনা যা অনুসরণ করে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কাজ বাইরের কোনো দক্ষ ব্যক্তি বা সংস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করে। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে বিশ্বাসযোগ্য আউটসোর্সার নির্বাচন, কাজের পরিধি ও দায়িত্ব নির্ধারণ, নিরাপদ চুক্তি ও ডেটা নিরাপত্তা, কাজের মান নিয়ন্ত্রণ, সময়মতো পেমেন্ট, নিয়মিত যোগাযোগ ও রিপোর্টিং, এবং প্রতিটি প্রজেক্ট শেষে মূল্যায়ন। এই নীতিমালা মানলে কাজের মান ও সময় নিশ্চিত হয়, ঝুঁকি কমে এবং দীর্ঘমেয়াদি সফলতা অর্জন করা সম্ভব।

আউটসোর্সিং কি?

আউটসোর্সিং হলো এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেই কোনো কাজ না করে তা বাইরের কোনো ব্যক্তি, ফ্রিল্যান্সার বা কোম্পানির মাধ্যমে সম্পন্ন করায়। সহজ কথায়, নিজের কাজ অন্যের দক্ষতার মাধ্যমে করানোই আউটসোর্সিং। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কোম্পানি যদি ওয়েবসাইট ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিক ডিজাইন বা কন্টেন্ট লেখা বাইরের ফ্রিল্যান্সারকে দিয়ে করায়, সেটাই আউটসোর্সিং। এটি ব্যবসা বা ব্যক্তিগত কাজকে আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী এবং দক্ষভাবে সম্পন্ন করতে সাহায্য করে।

আউটসোর্সিং এর সাথে ফ্রিল্যান্সিং এর সম্পর্ক কি ?

আউটসোর্সিং এবং ফ্রিল্যান্সিং পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। ফ্রিল্যান্সিং হলো এক ধরনের কাজের ধরণ যেখানে একজন ব্যক্তি স্বাধীনভাবে বা ঘরে বসে কোনো ক্লায়েন্টের জন্য নির্দিষ্ট প্রজেক্ট সম্পন্ন করে। আর আউটসোর্সিং হলো কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি নিজের কাজ নিজে না করে তা বাইরের কারো মাধ্যমে করানো। অর্থাৎ, যখন কোনো কোম্পানি আউটসোর্সিং করে কাজ ফ্রিল্যান্সারের কাছে দেয়, তখন ফ্রিল্যান্সাররা সেই আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে যায়। সহজভাবে বলতে গেলে, ফ্রিল্যান্সাররা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করার মূল বাহন।

আউটসোর্সিং করার জন্য ভালো ১০টি প্ল্যাটফর্ম

আউটসোর্সিং করার জন্য অনেক প্ল্যাটফর্ম আছে তা মধ্যে আমরা ১০টি ভালো ও বড় প্ল্যাটফর্মগুলো দেখব । এই ১০টি প্ল্যাটফর্ম জনপ্রিয় ও বিশ্বস্ত তাই দেখতে পারেন ।
  1. Upwork
    বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, মার্কেটিং—সব ধরনের কাজের জন্য উপযুক্ত।
  2. Fiverr
    ছোট ছোট প্রজেক্ট বা গিগ ভিত্তিক কাজের জন্য জনপ্রিয়। শুরুতে কাজ পাওয়ার জন্য সহজ এবং নতুনদের জন্য আদর্শ।
  3. Freelancer
    বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্টের জন্য ক্লায়েন্ট পোস্ট দেয় এবং ফ্রিল্যান্সাররা বিড করে কাজ পায়।
  4. Toptal
    উচ্চ মানের এবং অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য। ডিজাইন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ও ফাইনান্স খাতে উপযুক্ত।
  5. PeoplePerHour
    সময় ভিত্তিক কাজের জন্য ভালো। বিশেষ করে ইউকে ভিত্তিক ক্লায়েন্টদের জন্য উপযুক্ত।
  6. Guru
    নিরাপদ পেমেন্ট সিস্টেম ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট টুলসহ ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সুবিধাজনক প্ল্যাটফর্ম।
  7. 99Designs
    বিশেষভাবে গ্রাফিক ডিজাইন, লোগো, ব্র্যান্ডিং ও ক্রিয়েটিভ কাজের জন্য।
  8. SimplyHired
    বিভিন্ন ধরনের চাকরি ও ফ্রিল্যান্স প্রজেক্টের জন্য একটি বড় মার্কেটপ্লেস।
  9. Outsourcely
    দীর্ঘমেয়াদি রিমোট কাজের জন্য ভালো। স্টার্টআপ ও ছোট কোম্পানির জন্য উপযুক্ত।
  10. We Work Remotely
    রিমোট কাজের জন্য বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়। টেক, ডিজাইন ও কনটেন্ট-ভিত্তিক কাজের সুযোগ বেশি।

নতুনরা Fiverr বা Upwork দিয়ে শুরু করলে সহজে কাজ পেতে পারে। অভিজ্ঞদের জন্য Toptal বা Guru ভালো।


এই পোস্টে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞানের উদ্দেশ্যে। আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজের ক্ষেত্রে ফলাফল ব্যক্তি, দক্ষতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। লেখক বা ব্লগ কর্তৃপক্ষ কোনো আর্থিক ক্ষতি, আইনগত দায় বা সমস্যা সম্পর্কে দায়ভার গ্রহণ করে না।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url