সাইন্স নাকি কমার্স নাকি আর্টস কোন সাবজেক্ট নিবেন ?

কোন সাবজেক্ট নিবেন ? সাইন্স নাকি কমার্স নাকি আর্টস কোনটি নিলে আপনার জন্য ভালো হবে তা জানতে পারবেন । যারা নবম শ্রেণিতে পরেন তাদের জন্য অনেক কাজের একটা বিষয় হল কোন সাবজেক্ট নিবেন ? 

যদি আপনি সাইন্স নাকি কমার্স নাকি আর্টস কোনটি নিলে আপনার জন্য ভালো হবে সেটা জানতে চান তাহলে মনোযোগ দিয়ে পড়বেন কারণ কোন সাবজেক্ট নিবেন সেটা জানতে পারেন ও সব সাবজেক্ট এর কাজ কি ও কোন চাকরি করতে কোন সাবজেক্ট দরকার ও কোন সাবজেক্ট নিলে কি হতে পারবেন ।

সূচিপত্র

সাইন্স কি ?

সাইন্স হলো বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ধারা, যেখানে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষা ও যুক্তির মাধ্যমে প্রকৃতি, মানুষ, বস্তু এবং বিভিন্ন ঘটনার কারণ ও কার্যপ্রণালী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হয়। এই শাখায় মূলত পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়ানো হয়, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক বিষয় বুঝতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক কিংবা প্রযুক্তিবিদ হওয়ার পথ তৈরি করে।

কমার্স কি ?

কমার্স হলো ব্যবসা ও অর্থনীতি-ভিত্তিক শিক্ষা ধারা, যেখানে টাকা, ব্যবসা পরিচালনা, হিসাব-নিকাশ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়া হয়। এই শাখায় মূলত হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতি এবং ফাইন্যান্স পড়ানো হয়, যা ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, হিসাবরক্ষক, ম্যানেজার বা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তোলে।

আর্টস কি ?

আর্টস হলো মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ধারা, যেখানে মানুষের চিন্তা, সমাজ, ইতিহাস, ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা হয়। এই শাখায় বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, সমাজবিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়, যা শিক্ষার্থীর চিন্তাশক্তি, বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা গবেষক হওয়ার পথ তৈরি করে।

কোন সাবজেক্ট নিবেন বা কোন সাবজেক্ট আপনার জন্য

সাবজেক্ট নির্বাচন করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আপনার আগ্রহ, দক্ষতা এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। যারা বিজ্ঞান ও গণিতে আগ্রহী, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে ভালোবাসেন এবং ভবিষ্যতে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা গবেষক হতে চান, তাদের জন্য সাইন্স উপযুক্ত। যারা ব্যবসা, হিসাব-নিকাশ, অর্থনীতি বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে আগ্রহী এবং ব্যাংক, হিসাবরক্ষক, উদ্যোক্তা বা ম্যানেজার হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য কমার্স আদর্শ। আর যারা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান বা মানুষের আচরণ ও সংস্কৃতি নিয়ে আগ্রহী এবং শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক বা প্রশাসনিক কাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, তাদের জন্য আর্টস সবচেয়ে ভালো বিকল্প। তাই সাবজেক্ট বেছে নেওয়ার সময় নিজের আগ্রহ, ক্ষমতা এবং ভবিষ্যতের লক্ষ্য সবগুলোই মাথায় রাখতে হবে।

সাইন্সে কোন কোন বই থাকে ?

সাইন্স স্ট্রিমে সাধারণত এমন বই থাকে যা বিজ্ঞান ও গণিতের মূল বিষয়গুলোকে বোঝায় এবং পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি দেয়। এতে পদার্থবিজ্ঞান যেমন গতি, বল, শক্তি, তাপ, আলো এবং বিদ্যুৎ সম্পর্কিত বই; রসায়ন যেমন রাসায়নিক বিক্রিয়া, পদার্থের গঠন, অণু এবং তাপীয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত বই; জীববিজ্ঞান যেমন প্রাণী, উদ্ভিদ, মানবদেহ, কোষ এবং পরিবেশ সম্পর্কিত বই; এছাড়া উচ্চতর গণিত যেখানে অ্যালজেব্রা, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, ক্যালকুলাস ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই বইগুলো শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে বিষয়গুলো বোঝার পাশাপাশি পরীক্ষা ও প্রকল্প কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ধারণা দেয়। সাইন্স স্ট্রিমে সাধারণত পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান এবং উচ্চতর গণিত সম্পর্কিত বইগুলো পড়ানো হয়। তবে সাধারণ বই থাকেবেই সব সাবজেক্ট ।

কমার্সে কোন কোন বই থাকে ?

কমার্স স্ট্রিমে সাধারণত হিসাববিজ্ঞান, ব্যবসা শিক্ষা, অর্থনীতি এবং ইংরেজি বিষয়ের বই থাকে, যা ব্যবসা, অর্থনীতি ও ব্যবস্থাপনার মূল ধারণা শেখায়। এছাড়াও শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বাংলা, গণিত, পরিসংখ্যান, পৌরনীতি বা কম্পিউটার শিক্ষার মতো ঐচ্ছিক বইও পড়তে পারে, যা তাদের জ্ঞানকে আরও বিস্তৃত করে এবং ভবিষ্যতে ব্যাংক, হিসাবরক্ষক, উদ্যোক্তা বা ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করে।

আর্টসে কোন কোন বই থাকে ?

আর্টস স্ট্রিমে সাধারণত সেইসব বই পড়ানো হয় যা মানব সমাজ, সংস্কৃতি, ভাষা ও চিন্তাভাবনা বোঝার জন্য প্রয়োজনীয়। এর মধ্যে থাকে ইতিহাস, যেখানে অতীতের ঘটনা ও সভ্যতার বিকাশ শেখানো হয়; ভূগোল, যা পৃথিবীর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ ব্যাখ্যা করে; অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান, যা সমাজ, রাষ্ট্র ও অর্থনৈতিক কাঠামোর কাজ বোঝায়; দর্শন ও মনোবিজ্ঞান, যা মানুষের চিন্তা ও আচরণ বিশ্লেষণ করতে সাহায্য করে; ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, যা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান দেয়; এছাড়া যুক্তিবিদ্যা, বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ, ইংরেজি সাহিত্য এবং চারু ও কারুকলার মতো বইও অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণ ক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক বা প্রশাসনিক কাজে ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করে।

সাবজেক্ট নেওয়ার পরে কি সাবজেক্ট বদলানো যাবে ?

সাধারণত সাবজেক্ট নেওয়ার পরে তা সরাসরি বদলানো সম্ভব, তবে স্কুল বা কলেজের নিয়মের ওপর নির্ভর করে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, নতুন সাবজেক্ট নিতে হলে মূল সাবজেক্ট নেওয়ার ১০ দিনের মধ্যে আবেদন করতে হয় এবং পুরোনো বই বা রিসোর্স ফিরিয়ে দিতে হয়। এরপর আপনি নতুন সাবজেক্টে ভর্তি হয়ে নতুন বই ও ক্লাস শুরু করতে পারবেন। তবে এসএসসি পরীক্ষার পরে বা কলেজে ভর্তি হলে সাবজেক্ট পরিবর্তনের নিয়ম কিছুটা কঠিন হতে পারে এবং স্কুল বা কলেজের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আবেদন করতে হয়। তাই সাবজেক্ট বেছে নেওয়ার আগে নিজের আগ্রহ ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য ভালোভাবে ভেবে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

যদি পড়াশোনার সাঙ্গে কোন কাজ করতে চাই তাহলে কোন সাবজেক্ট নিবেন ।

যদি পড়াশোনার পাশাপাশি কোনো কাজ বা আয় করতে চান, তাহলে সাবজেক্ট নির্বাচন অবশ্যই আপনার সময় ব্যবস্থাপনা ও ভবিষ্যতের লক্ষ্য অনুযায়ী করা উচিত। কমার্স এ ভর্তি হলে শিক্ষার্থীরা হিসাব, ব্যবসা বা অর্থনীতির জ্ঞান ব্যবহার করে ছোট ব্যবসা, অনলাইন বিক্রয় বা ফ্রিল্যান্সিং করতে পারে। সাইন্স এ ভর্তি হলে বিজ্ঞান ও গণিতের জ্ঞান ব্যবহার করে টিউশন, প্রোজেক্ট কাজ বা প্রযুক্তি-ভিত্তিক ফ্রিল্যান্সিং করা যায়। আর আর্টস এ ভর্তি হলে ভাষা, সাহিত্য ও সামাজিক বিষয়ের জ্ঞান ব্যবহার করে লেখালেখি, অনলাইন কনটেন্ট, শিক্ষা বা সাংবাদিকতা-ভিত্তিক কাজ করা সম্ভব। সংক্ষেপে, আপনার আগ্রহ ও সময় অনুযায়ী এমন সাবজেক্ট বেছে নিন যা পড়াশোনার সঙ্গে আয় বা কাজের সুযোগও দিবে।

Post Disclaimer

এই পোস্টে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ জ্ঞান ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। এখানে উল্লেখিত বিষয়গুলি ব্যক্তিগত পরামর্শ বা পেশাগত নির্দেশনার বিকল্প নয়। লেখক বা ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতি বা ফলাফলের জন্য দায়ী নয়। পাঠককে নিজে যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url