কিবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ চালানোর সহজ উপায়।

কম্পিউটার চালানো শুধুমাত্র মাউসের ওপর নির্ভর করা সময়ের অপচয়। যদি আপনি দ্রুত ও দক্ষভাবে কাজ করতে চান, তবে কীবোর্ড শর্টকাট জানা অত্যন্ত জরুরি। এই পোস্টে আমি আপনাকে দেখাবো  সহজ উপায় যা ব্যবহার করে আপনি কম সময়ে আরও অনেক কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
আপনি হয়তো ভাবছেন, কীভাবে এই ছোট ছোট কীগুলো আমার কাজকে এত দ্রুত করতে পারবে? আসলে, প্রতিটি শর্টকাট আপনার কম্পিউটার চালানোর ধাপগুলোকে সহজ এবং স্বয়ংক্রিয় করে তোলে। মাউস ব্যবহার করে যত সময় নষ্ট হত, তা কীবোর্ড শর্টকাটের মাধ্যমে সেকেন্ডে করা সম্ভব। এই পোস্টে আমরা এমন জনপ্রিয় ও সহজ শর্টকাট দেখব, যা একবার মনে রাখলেই আপনি প্রতিদিনের কাজ অনেক দ্রুত করতে পারবেন। এছাড়া, প্রতিটি শর্টকাটের ব্যবহার ও উদাহরণ দেওয়া থাকবে, যাতে নতুন ব্যবহারকারীরাও সহজেই অনুসরণ করতে পারেন।
সূচিপত্র

প্রধান কীবোর্ড শর্টকাটগুলো প্রয়োজনীয় সব শর্টকাট

  1. Ctrl + C: নির্বাচিত টেক্সট বা ফাইল কপি করা।
  2. Ctrl + V: কপি করা টেক্সট বা ফাইল পেস্ট করা।
  3. Ctrl + X: নির্বাচিত টেক্সট বা ফাইল কাট করা।
  4. Ctrl + Z: শেষ করা কাজ Undo করা।
  5. Ctrl + Y: Undo করা কাজ পুনরায় করা (Redo)।
  6. Ctrl + A: পুরো টেক্সট বা সব ফাইল একসাথে সিলেক্ট করা।
  7. Ctrl + F: কোনো শব্দ বা ফাইল খুঁজতে Find বক্স খোলা।
  8. Ctrl + S: বর্তমান ফাইল বা ডকুমেন্ট সেভ করা।
  9. Ctrl + P: প্রিন্ট ডায়ালগ খোলা।
  10. Ctrl + N: নতুন ডকুমেন্ট বা ফাইল তৈরি করা।
  11. Ctrl + T: ব্রাউজারে নতুন ট্যাব খোলা।
  12. Ctrl + W / Ctrl + F4: বর্তমান ট্যাব বা ফাইল বন্ধ করা।
  13. Alt + Tab: চলমান প্রোগ্রামের মধ্যে দ্রুত স্যুইচ করা।
  14. Windows + D: সকল উইন্ডো minimize করে Desktop দেখানো।
  15. Windows + L: কম্পিউটার লক করা।
  16. Ctrl + Shift + Esc: সরাসরি Task Manager খোলা।
  17. Ctrl + Shift + N: নতুন ফোল্ডার তৈরি করা।
  18. Ctrl + Alt + Del: সিকিউরিটি স্ক্রিন খোলা, Task Manager বা লগআউট।
  19. F2: নির্বাচিত ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তন করা।
  20. F5: পেজ বা ফোল্ডার রিফ্রেশ করা।

উইন্ডোজ ডেস্কটপ নেভিগেশন কিবোর্ড শর্টকাট

উইন্ডোজে বিভিন্ন অ্যাপ বা ফোল্ডার দ্রুত খুলতে এবং ডেস্কটপে দ্রুত নেভিগেট করতে মাউসের ওপর নির্ভর না করেই কাজ করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, Alt + Tab ব্যবহার করে খোলা অ্যাপের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন করা যায়, Win + D চাপলে সব উইন্ডো লুকিয়ে ডেস্কটপ দেখানো বা পুনরায় ফিরে যাওয়া যায়, এবং Win + E চাপলে ফাইল এক্সপ্লোরার সরাসরি খোলা যায়। এই শর্টকাটগুলো ব্যবহার করলে আপনার কম্পিউটারে কাজের গতি অনেক বৃদ্ধি পায় এবং একাধিক টাস্ক একসাথে সহজে করা যায়।

  1. Alt + Tab → খোলা অ্যাপের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন
  2. Win + D → ডেস্কটপ দেখানো/লুকানো
  3. Win + E → ফাইল এক্সপ্লোরার খোলা
  • কারণ: মাউস ছাড়াই বিভিন্ন অ্যাপ বা ফোল্ডার দ্রুত খোলা যায়।

ব্রাউজার ব্যবহার দ্রুত করা কিবোর্ড শর্টকাট

ইন্টারনেটে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করার জন্য কীবোর্ড শর্টকাট জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাউজারে এই শর্টকাটগুলো ব্যবহার করলে মাউসের ওপর নির্ভরতা কমে যায় এবং একাধিক টাস্ক সহজে সম্পন্ন করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, Ctrl + T চাপলেই একটি নতুন ট্যাব খোলা যায়, যা একসাথে একাধিক ওয়েবসাইটে কাজ করা সহজ করে। যদি কোনো ট্যাব ভুলবশত বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে Ctrl + Shift + T ব্যবহার করে বন্ধ করা ট্যাব আবার খুলতে পারেন। এছাড়াও, যখন কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে যাওয়ার প্রয়োজন হয়, তখন Ctrl + L চাপলেই কার্সর সরাসরি অ্যাড্রেসবারে চলে আসে, ফলে URL টাইপ করা বা সার্চ করা দ্রুত হয়ে যায়। আর যখন কোন ট্যাব শেষ হয়ে গেলে বা প্রয়োজন না থাকে, Ctrl + W দিয়ে সহজেই বর্তমান ট্যাব বন্ধ করা সম্ভব। এই শর্টকাটগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে ব্রাউজিং অনেক দ্রুত, স্মার্ট এবং প্রোডাক্টিভ হয়, বিশেষ করে যারা অনলাইনে কাজ বা রিসার্চ করেন তাদের জন্য এটি সময় বাঁচানোর সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর উপায়।

  1. Ctrl + T → নতুন ট্যাব খোলা
  2. Ctrl + W → বর্তমান ট্যাব বন্ধ করা
  3. Ctrl + Shift + T → বন্ধ করা ট্যাব আবার খোলা
  4. Ctrl + L → অ্যাড্রেসবারে কার্সর নিয়ে আসা
  • কারণ: ইন্টারনেটে দ্রুত নেভিগেশন।

ফাইল ও ফোল্ডার ম্যানেজমেন্ট কিবোর্ড শর্টকাট 

কম্পিউটারে ফাইল ও ফোল্ডার ঠিকভাবে ম্যানেজ করা অনেক সময় সাশ্রয় করতে পারে, আর এর জন্য কীবোর্ড শর্টকাট সবচেয়ে কার্যকর উপায়। উদাহরণস্বরূপ, Ctrl + N চাপলেই নতুন উইন্ডো খোলা যায়, যা একসাথে একাধিক ফোল্ডার বা ড্রাইভ একসাথে দেখতে সাহায্য করে। নতুন ফোল্ডার তৈরি করতে Ctrl + Shift + N ব্যবহার করা যায়, ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ফাইল সংরক্ষণ দ্রুত করা সম্ভব। ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তনের জন্য F2 ব্যবহার করলে আপনি সহজেই নাম পরিবর্তন করতে পারেন, যা বিশেষ করে বড় ডকুমেন্ট বা প্রজেক্ট ফোল্ডারগুলোর জন্য খুবই উপযোগী। এছাড়া, Delete ব্যবহার করে ফাইল রিসাইকেল বিনে পাঠানো যায়, আর Shift + Delete চাপলে ফাইল স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা সম্ভব। এই শর্টকাটগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে ফাইল ও ফোল্ডার ম্যানেজমেন্ট অনেক দ্রুত, কম ক্লিকের মাধ্যমে এবং ঝামেলাহীনভাবে করা যায়।

  1. Ctrl + N → নতুন উইন্ডো খোলা
  2. Ctrl + Shift + N → নতুন ফোল্ডার তৈরি
  3. F2 → নির্বাচিত ফাইল বা ফোল্ডারের নাম পরিবর্তন
  4. Delete / Shift + Delete → ফাইল রিসাইকেল বা স্থায়ী মুছে ফেলা
  • কারণ: ফাইল ম্যানেজমেন্ট দ্রুত ও কম ক্লিকে করা যায়।

স্ক্রিন এবং উইন্ডো নিয়ন্ত্রণ কিবোর্ড শর্টকাট

একাধিক অ্যাপ এবং উইন্ডো দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য কীবোর্ড শর্টকাট অপরিহার্য। উদাহরণস্বরূপ, Win + ↑ / ↓ / ← / → ব্যবহার করে আপনি কোনো উইন্ডোকে সহজে maximize বা minimize করতে পারেন, বা স্ক্রিনের কোন পাশে snap করতে পারেন, যা একসাথে একাধিক উইন্ডোর মধ্যে কাজ করার সময় সময় বাঁচায়। যদি কোনো অ্যাপ বন্ধ করতে চান, Alt + F4 চাপলেই তা দ্রুত বন্ধ করা যায়। এছাড়াও, নিরাপত্তার জন্য Win + L ব্যবহার করে কম্পিউটার দ্রুত লক করা সম্ভব, যাতে কোনো অননুমোদিত ব্যক্তি আপনার তথ্য দেখতে না পারে। এই শর্টকাটগুলো ব্যবহার করলে একাধিক উইন্ডো এবং অ্যাপ পরিচালনা অনেক দ্রুত, নিরাপদ এবং স্মার্টভাবে করা যায়, যা বিশেষ করে অফিস বা প্রফেশনাল কাজের জন্য সময় বাঁচানোর এক গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

  1. Win + ↑ / ↓ / ← / → → উইন্ডো maximize, minimize বা snap
  2. Alt + F4 → অ্যাপ বন্ধ করা
  3. Win + L → কম্পিউটার লক করা
  • কারণ: একাধিক উইন্ডো পরিচালনা দ্রুত এবং নিরাপদ।

টেক্সট এডিটিং কিবোর্ড শর্টকাট

ডকুমেন্ট বা লেখা সম্পাদনা করার সময় কীবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করলে কাজ অনেক দ্রুত এবং সুবিধাজনক হয়। উদাহরণস্বরূপ, Ctrl + A চাপলেই পুরো টেক্সট একসাথে সিলেক্ট করা যায়, যা একাধিক পরিবর্তন বা ফরম্যাট করার সময় সময় বাঁচায়। যখন কোনো নির্দিষ্ট শব্দ বা অংশ খুঁজে বের করতে হয়, Ctrl + F ব্যবহার করে দ্রুত Find বক্স খুলে প্রয়োজনীয় অংশ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। একইভাবে, Ctrl + H চাপলেই টেক্সট পরিবর্তনের (Replace) অপশন সক্রিয় হয়, যা একাধিক জায়গায় একই টেক্সট পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। এছাড়া, Ctrl + Shift + Arrow ব্যবহার করে আপনি শব্দ বা প্যারাগ্রাফ অনুযায়ী সিলেকশন করতে পারেন, যা দীর্ঘ ডকুমেন্টে দ্রুত কাজ করা সহজ করে। এই শর্টকাটগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে লেখা সম্পাদনা অনেক দ্রুত, সঠিক এবং প্রোডাক্টিভ হয়।

  1. Ctrl + A → সব টেক্সট সিলেক্ট
  2. Ctrl + F → খুঁজতে (Find)
  3. Ctrl + H → টেক্সট পরিবর্তন (Replace)
  4. Ctrl + Shift + Arrow → শব্দ বা প্যারাগ্রাফ অনুযায়ী সিলেক্ট
  • কারণ: লেখা দ্রুত সম্পাদনা করা যায়।

স্ক্রিনশট নেওয়া কিবোর্ড শর্টকাট

মাউস ছাড়াই কম্পিউটার থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া সহজ করার জন্য কীবোর্ড শর্টকাট খুবই কার্যকর। পুরো স্ক্রিনের স্ক্রিনশট নিতে PrtSc চাপলেই হয়ে যায়, যা ছবির আকারে Clipboard-এ সংরক্ষণ হয়। শুধুমাত্র সক্রিয় উইন্ডোর স্ক্রিনশট নিতে Alt + PrtSc ব্যবহার করা যায়, যা একাধিক অ্যাপের মধ্যে কাজ করার সময় সময় বাঁচায়। এছাড়া, স্ক্রিনের নির্দিষ্ট অংশের স্ক্রিনশট নিতে Win + Shift + S ব্যবহার করা যায়, যা আপনাকে নির্দিষ্ট এলাকাটি সিলেক্ট করে দ্রুত ছবি নেওয়ার সুযোগ দেয়। এই শর্টকাটগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে স্ক্রিনশট নেওয়া অনেক দ্রুত, সহজ এবং মাউসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেয়, বিশেষ করে প্রেজেন্টেশন বা টিউটোরিয়াল তৈরির জন্য এটি এক অত্যন্ত সুবিধাজনক উপায়।

  1. PrtSc → পুরো স্ক্রিনের স্ক্রিনশট
  2. Alt + PrtSc → সক্রিয় উইন্ডোর স্ক্রিনশট
  3. Win + Shift + S → স্ক্রিনের নির্বাচিত অংশের স্ক্রিনশট
  • কারণ: কেবল কীবোর্ডে স্ক্রিনশট নেওয়া যায়, মাউস ছাড়াই।

মাল্টিটাস্কিং দক্ষ করা কিবোর্ড শর্টকাট

একাধিক অ্যাপ বা কাজ একসাথে পরিচালনা করার জন্য কীবোর্ড শর্টকাট ব্যবহার করা সময় বাঁচায় এবং কাজকে অনেক দ্রুত করে। উদাহরণস্বরূপ, Ctrl + Shift + Esc চাপলেই সরাসরি Task Manager খোলা যায়, যা আপনার কম্পিউটারের চলমান অ্যাপ ও প্রসেস মনিটর করতে সাহায্য করে। একাধিক অ্যাপের মধ্যে দ্রুত পরিবর্তন করতে Alt + Esc ব্যবহার করা যায়, যা অ্যাপ চক্রের মাধ্যমে স্যুইচ করতে সহজ করে। এছাড়া, Win + Tab চাপলে সব খোলা অ্যাপ এবং ভার্চুয়াল ডেস্কটপ একসাথে দেখা যায়, যা মাল্টিটাস্কিংকে আরও সুবিধাজনক এবং স্মার্ট করে তোলে। এই শর্টকাটগুলো নিয়মিত ব্যবহার করলে একসাথে একাধিক কাজ অনেক দ্রুত এবং সহজভাবে করা সম্ভব, যা অফিস, প্রজেক্ট বা রিসার্চের সময় বিশেষভাবে কার্যকর।

Post Disclaimer

এই পোস্টে প্রদত্ত কীবোর্ড শর্টকাট এবং কম্পিউটার টিপস সাধারণ তথ্য এবং শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এগুলো ব্যবহার করার ফলে আপনার কম্পিউটার বা সফটওয়্যারের কোনো ক্ষতি হলে লেখক বা ব্লগের দায়িত্ব থাকবে না। নিশ্চিতভাবে কাজ করার জন্য অফিসিয়াল Microsoft বা সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ডকুমেন্টেশন অনুসরণ করুন। এছাড়া, ব্লগে প্রদত্ত তথ্য ব্যবহার করার আগে নিজের কম্পিউটারে নিরাপদভাবে পরীক্ষা করে নিন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
1 Comments
  • CEO
    CEO 4 January 2026 at 07:11

    Nice ❤️❤️❤️

Add Comment
comment url