স্মার্ট ফোনের ভুল ব্যবহার যা আপনিও করেন ?
আজকের ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। যোগাযোগ, কাজ, বিনোদন সবকিছুতেই আমরা স্মার্টফোনের ওপর নির্ভর করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, আমরা অনেকেই বুঝতেই পারি না যে প্রতিদিনই আমরা কতভাবে স্মার্টফোনের ভুল ব্যবহার করছি। এই ভুলগুলো আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, সময় ব্যবস্থাপনা এমনকি নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্যই স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাসগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।
অনেকে ঘুম থেকে উঠেই প্রথম কাজ হিসেবে ফোন চেক করেন, যা মানসিক চাপ ও দিনের শক্তি কমিয়ে দেয়। আবার অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার, অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং, অকারণে নোটিফিকেশন চালু রাখা এসব অভ্যাস আমাদের সময় নষ্ট করার পাশাপাশি মনোযোগ বিচ্যুত করে।
১. অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
অনেকেই ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই ফোন ধরেন এবং ঘুমানোর আগ পর্যন্ত ফোনেই থাকেন। এতে চোখের চাপ, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তিও দুর্বল হতে পারে। তাই একটু কম মোবাইল দেখবেন ঘুম থেকে উঠে নাহলে ঘুম থেকে উঠে মোবাইল দেখবেন না । আপনি কি ঘুম থেকে উঠে মোবাইল দেখেন তা জানাবেন ।
২. চার্জ ২০% এর নিচে নামানো
ব্যাটারি ২০%–এর নিচে নামলেই ক্ষতি হতে থাকে। বারবার নিচে নামালে চার্জ সাইকেল দ্রুত কমে যায় এবং ব্যাটারির Health ড্রপ হয়। আবার মোবাইলের চার্জ তারাতারি শেষ হয়ে যায় । আপনি কি ২০% এর নামান কি তাহলে জানাইবেন । তবে এটা বাঙালির একটা শবাব বলতে পারেন আমি জানি এখানে অনেকই আছে মোবাইলের চার্জ ১% হলে চার্জে লাগান ।
৩. ১০০% চার্জে দীর্ঘক্ষণ রাখা
অনেকে চার্জে লাগিয়ে রেখে দেন—ঘুমের সময় বা ফ্রি না হওয়া পর্যন্ত। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ১০০% চার্জে বেশি গরম হয় এবং ব্যাটারির আয়ু দ্রুত কমে যায়। ভাই মোবাইলের ফাস্ট গতি বা দ্রুত করতে চান ও বেশি দিন মোবাইল ব্যবহার করতে চান কিন্তু এই ছোট ছোট কাজের জন্য আমাদের মোবাইল তারাতারি নষ্ট বা খারাপ হয়ে যায় । এই বিষয়টা একটু মনোযোগ দিয়ে দেখবেন যাবে মোবাইলে ১০০% চার্জ হয়ে গেলে মোবাইল চার্জ থেকে খুলে ফেলবেন ভালো হবে আপনার মোবাইলের জন্য ।
৪. ঘুমানোর সময় ফোন বালিশের পাশে রাখা
ফোন গরম হলে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থাকে। এছাড়া রেডিয়েশন—যদিও কম—তবুও দীর্ঘসময় মাথার পাশে থাকলে ঘুমে ব্যাঘাত ও মাইগ্রেনের সমস্যা বাড়ে। তাই ছোট একটা টেবিল রাখবেন আপনার বিচানার পাশে তাতে মোবাইল রাখবেন তাহলে কোন সমস্যা হবে না । আপনি কি মোবাইল আপনার বালিশের পাশে রাখেন তাহলে জানাবেন । আমিও আগে রাখতাম বালিশের পাশে মোবাইল তারপর আমি এই কথা শুনে আর কোন দিন আমার মোবাইল বালিশের পাশে রাখিনি । তাই এটার প্রতিও একটু নজর দিবেন ।
৫. অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টল
আরো কাজের জন্য পরে লাগবে এই ভেবে অনেকে অনেক অ্যাপ ইনস্টল করে রাখেন। এতে ফোন স্লো হয়, র্যাম দখল হয়, স্টোরেজ নষ্ট হয়, এমনকি অনেক অ্যাপ গোপনে ডেটা সংগ্রহ করে। আবার আমরা গেম ও অনেক সময় ডাউনলোড করে থাকি এতে মোবাইলের স্টোরেজ নষ্ট হয় । এটার জন্য আমাদের মোবাইল দ্রুত কাজ করে না । আর আমরা ভাবি কিনা মোবাইল নষ্ট হয়ে গেছে না মোবাইলে অপ্রযোজনীয় অ্যাপ ইনস্টল থাকলে মোবাইল দ্রুত কাজ করে না ।
৬. সস্তা চার্জার/ক্যাবল ব্যবহার
সস্তা চার্জার বা কেবল সাধারণত ভেতরের ভোল্টেজ এবং কারেন্ট ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, যার ফলে ব্যাটারি সঠিকভাবে চার্জ হওয়া তো দূরের কথা, অতিরিক্ত চাপ পড়ে ব্যাটারির সেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে ব্যাটারি ধীরে ধীরে ফুলে ওঠা, চার্জ দ্রুত কমে যাওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া, এমনকি শর্ট সার্কিট হয়ে আগুন লাগার মতো বিপজ্জনক দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই ফোনের নিরাপত্তা এবং ব্যাটারির দীর্ঘস্থায়িত্ব বজায় রাখতে সবসময় ভালো মানের চার্জার ও কেবল ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
৭. লোকেশন সবসময় অন রাখা
লোকেশন বা GPS সবসময় চালু থাকলে ব্যাটারি দ্রুত খরচ হয়। তাছাড়া লোকেশন ট্র্যাক করে অনেক অ্যাপ আপনার ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নেয়। আরো অনেক কিছু হয় লোকেশন অন থাকলে । আপনার লোবেশন সব সময় অন রাখলে একটা ভালো দিক হলো মোবাইল হারালে হলে আপনি আপনার মোবাইলের লোকেশন জানতে পারবেন । তবে লোকেশন অফ রাখলেই ভালো হয় এটা আপনার ইচ্ছাে আপনি কি লোকেশর অন রাখবেন না কি রাখবেন না ।
৮. ওয়াই-ফাই/ব্লুটুথ সবসময় চালু রাখা
৯. নিয়মিত ক্যাশ পরিষ্কার না করা
অ্যাপ চালানোর ফলে ক্যাশ জমা হয়। মাসের পর মাস পরিষ্কার না করলে স্টোরেজ ফ্লো হয়ে যায় এবং ফোন স্লো হয়ে পড়ে। অ্যাপ ল্যাগ করতেও শুরু করে। বা মোবাইলের স্টুরেজ ও কমে যায় । এটা আমাদের মোবাইলের জন্য অনেক ক্ষতি করে থাকে এটা আপনার মোবাইল কে অন্য লেভেলে নিতে সাহায্য করে থাকে তাই এটাও আমাদের জন্য খুব দরকারি ।
১০. অটো ব্রাইটনেস অফ রাখা
মানুষ সাধারণত প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ব্রাইটনেস রাখেন। এতে চোখের ওপর প্রেশার পড়ে এবং ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়। অটো ব্রাইটনেস সাধারণত সেরা ব্যালান্স দেয়। আবার বেশি ব্রাইটনেনস দিয়ে চোকের ও আমাদের ক্ষতি হয়ে তাকে ও আমাদের সাস্থর জন্যও ক্ষতিকারক আপনি দেখবেন ।
১১. সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় নষ্ট
Facebook, TikTok, YouTube—ঘন্টার পর ঘন্টা স্ক্রল করলে মনোযোগ নষ্ট হয়, কাজের প্রোডাক্টিভিটি কমে এবং মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়। ডোপামিন লেভেল নষ্ট হয়, মানুষ আসক্ত হয়ে যায়। মানে আমি বোঝিয়ে বলছি আপনি যদি বেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দেন তাহলে আপনার কাজে মন বসবে না ও মানুষের কথা ভালো লাগবে না শুদু সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা মনে হয়ে থাকে ও নিজের পরিবারেও সমস্যা হয়ে থাকে । এটা নিয়ে আমি আলাদা একটা আস্তা একটা ব্লগ লিখেছি যাতে আপনাকে বোঝানো হয়েছে যে কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় থেকে ও মোবাইল থেকে বের হয়ে আস্তে পারবেন ।
১২. ফোন আপডেট না করা
অনেকে ভাবেন আপডেট দিলে ফোন স্লো হবে, তাই এড়িয়ে যান। কিন্তু আপডেটগুলো সিকিউরিটি প্যাচ দেয় যা ডাটা থেকে রক্ষা করে। ও মোবাইলের ইউআই সুন্দর লাগে ও মোবাইলের অ্যাপ গুলো চালাতে ভালো লাগে তবে আবার ভালো লাগলে বেশি মোবাইল চাপবেন না । যারা ভাবেন যে মোবাইলের অ্যাপ আপডেট করলে মোবাইল স্লো হয়ে যায় কিন্তু মোবাইলের অ্যাপ আপডেট করলে মোবাইল আরো ফাস্ট করে তুলে ।
১৩. বাথরুমে ফোন ব্যবহার
এই অভ্যাস খুব সাধারণ হলেও খুব ক্ষতিকর। বাথরুমে পানি ও বাষ্প ফোনের ভেতরে ঢুকে ফ্লেক্স, স্পিকার এবং সেন্সর নষ্ট করতে পারে। পাশাপাশি ফোনে প্রচুর জীবাণু জমে। আর এটার জন্য পারিবারের মানুষের মধ্যে আমাদের নিয়ে চিন্তা থাকে যে আমরা বাথরুমে গিয়ে কি করি না বাথরুমে আমাদের কিছু হল । এই সাধারণ অভ্যাসটা এড়িয়ে চলবেন ।
১৪. অনিরাপদ লিঙ্কে ক্লিক করা
১৫. ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে লেনদেন করা
১৬. ফোনে পাসওয়ার্ড না দেওয়া
অনেকেই ফোন আনলক রাখেন বা খুব সহজ পিন ব্যবহার করেন। এতে ফোন হারালে ব্যক্তিগত ছবি, মেসেজ, ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট সব ঝুঁকিতে পড়ে। তাই একটু কঠিন পাসওয়ার্ড দিবেন নাহলে আপনার বন্ধু নামে কিছু মানুষ আছে যারা আপনার মোবাইলকে পেলে বুঝবেন কি দিয়েছেন আপনার বন্ধুদের । এটা কিন্তু আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।
১৭. গেম বা অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে খোলা রাখা
১৮. অতিরিক্ত নোটিফিকেশন চালু রাখা
হাজার হাজার নোটিফিকেশন মনোযোগ নষ্ট করে। অনেক অ্যাপ নোটিফিকেশন দিয়ে ডোপামিনের লুপ তৈরি করে, ফলে মস্তিষ্ক ডিস্ট্র্যাক্টেড হয়ে পড়ে। আর আমরা অনেক বাজে বাজে কাজ করে ফেলি তাই আপনার মোবাইলের সেটিং থেকে এই নোটিপিকেশন টা বন্ধ রাখবেন নাহলে কিন্তু আপনাকে তারা তাদের দিকে টেনে নিবে সেই নোটিফিকেশন গুলোর অ্যাপগুলো ।
১৯. ফোন হাত থেকে না রাখা
ফোন সবসময় হাতের মুঠোয় থাকলে মানসিক চাপ, ডিপ্রেশন, ঘুমের সমস্যা তৈরি হয়। ফোন ব্যবহার সীমিত না করলে জীবনে ব্যালান্স নষ্ট হয়। আবার আমাদের হাতের ঘাম গিয়ে মোবাইলে ডুকে পরে এতে মোবাইলের ক্ষতি হয়ে থাকে আর আমাদের হাতও কাজ করতে বন্ধ করে দেয় ।
২০. স্টোরেজ ফুল করে ব্যবহার
স্টোরেজ ৮৫–৯০% হলে ফোন স্লো হয়ে যায়। বড় ফাইল ওপেন হয় না, নতুন অ্যাপ ইনস্টল হয় না। অনেক সময় ফাইল করাপ্টও হয়ে যায়। এটাও আমাদের যারার কম স্টোরেজ ওয়ালা মোবাইলের জন্য অনেক বেশি বিরকত করে এটা কিভাবে ঠিক করবেন এটা জানতে চাইলে আমাদের কমেন্ট করতে পারেন তাহলে আমরা এই বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখব কিভাবে স্টোরেজ ক্লিয়ার রাখবেন ।
আবার দেখে নিন:তাহলে আমরা প্রিয় বন্ধুরা আপনারা তো জানলেন আমাদের স্মার্ট ফোনের ভুল ব্যবহার কিভাবে করে থাকি আর আরেকটা আগেই ক্ষমা চাই যে আমি এত দিন আপনাদের মাঝে ছিলাম না করণ আমার পরিক্ষা ছিল তাই একটু দেরিতে আপনাদের সাথে দেখা হল । তবে আপনাদের জন্য আমি এখন প্রতিদিন ব্লগ লেখার চেষ্টায় থাকব । তাহলে আমি আসি আমার জন্য দোয়া করবেন আমিও আপনাদের জন্য দোয়া করি সবাই ভালো থাকন ।

Nice blog ❤️🥰