নিম পাতার গুড়া করার নিয়ম - নিম পাতার বড়ি খাওয়ার উপকারিতা

নিম পাতার গুঁড়া তৈরির নিয়ম ও উপকারিতা এমন একটি বিষয়, যা আমাদের দৈনন্দিন স্বাস্থ্যচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিম পাতা প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে, আর এই পাতাকে শুকিয়ে গুঁড়া বানালে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং সহজেই খাওয়া যায়। সঠিকভাবে নিম পাতা পরিষ্কার করে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করলে এর ভেষজ গুণ অক্ষুণ্ণ থাকে। এই গুঁড়া আপনি পানির সঙ্গে, মধুর সঙ্গে বা ভেষজ বড়ি আকারে গ্রহণ করতে পারেন। পাশাপাশি নিম পাতার গুঁড়া নিয়মিত খেলে চুল, ত্বক, রক্ত, হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় অসাধারণ উপকার পাওয়া যায়। তাই স্বাস্থ্য রক্ষার প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে নিম পাতার গুঁড়া আজকাল সবাই ব্যবহার করছেন।
আজকের যুগে ভেজাল যেন আমাদের জীবনের অপরিহার্য একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে তাকালেই দেখা যায় খাবার থেকে শুরু করে ঔষধ, এমনকি সৌন্দর্যচর্চার সামগ্রী পর্যন্ত সবখানেই ভেজাল উপচে পড়ছে। চাহিদা বাড়ছে, সরবরাহ বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। ঠিক এই ব্যস্ত ও ভেজালে ভরা সময়ে আমরা ভুলে যাচ্ছি প্রকৃতির নিজের হাতে দেওয়া সেই অসাধারণ সম্পদগুলোকে যেগুলো একসময় আমাদের সুস্থতার প্রধান ভরসা ছিল।

নিম পাতার গুড়া করার নিয়ম

আমরা যদি নিম পাতা গুড়া করতে চাই তাহলে নিমের গুঁড়া তৈরির জন্য একদম তাজা, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর পাতা নেওয়া খুব জরুরি। যেসব পাতা হলুদ, শুকনা বা দাগযুক্ত সেগুলো ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে গুণাগুণ কম থাকে। আমি কোন পাতাগুলো বলছি তা আপনারা বুঝতে পারতেছেন । অনেক সময় পাতায় ছোট পোকা থাকে বা ফাঙ্গাস ধরে। এমন পাতা ব্যবহার করলে গুঁড়ো দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তারাপর আমরা যে খান থেকে পাতা এনেছি সেই জায়গায় হয়তো অনেক পাখির ময়লা থাকে বা অনেক ধরণের ময়লা থাকে তাই আমাদের যে পাতাগুলো গুড়া করতে চাই সেইপাতাগুলো পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিবেন ।  তারপর সেই পাতা গুলো বাতাসে একটু রাখবেন কারণ হল পানিতে ধুয়ার কারণে পানি বা বিজে খাকতে পারে তাই একটা বাতাসে রাখবেন । তবে একটু ভালো করে এই কথাটা বুঝুন নাহলে হয় তো আপনার নিম পাতাগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে এগুলো পাতা রোদে রাখবেন না শুদু যেখানে বাতা থাকে সেই জায়গায় রাখুন নাহলে পাতাগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে ।

নিম পাতাগুলোর গুড়া করতে এইগুলো সব থেকে জরুরি

নিম পাতাগুলো ভালো করে শুকিয়ে বা পাতার পানি ছাড়িয়ে আমাদের আবার দেখে নিতে হবে যে কোন পাতা কি কোন সমস্যা আছে । তারপর ভালো করে দেখে নিয়ে ব্লেন্ড করলে সহজে এবং সূক্ষ্ম গুঁড়া হয়। শিল-পাটাও ব্যবহার করা যায়, তবে সময় বেশি লাগে। এক ফোঁটা পানিও থাকলে গুঁড়ো দলা পাকিয়ে যাবে এবং নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। পাতা বেশি হলে ব্লেড ঠিকমতো ঘুরবে না এবং পাতাগুলো ঠিকমতো গুঁড়ো হবে না। আর আমরা যদি শিল-পাটায় এই পাতাগুলো গুড়া করতে চাই তাহলে আমাদের সেই শিল-পাটা টা ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে নাহলে নিম পাতায় বালু লাগবে । আর আমাদের শিল-পাটা গুড়া করলে সবাই একটা করি যাতে আমাদের নিম পাতাগুলো নষ্ট হয়ে যায় সেটা হল আমরা শিল-পাটা ধুয়ে দেওয়ারপর সেটাকে আর শুকাই না এমনেই আমরা নিম পাতা গুড়া করতে লেগে যাই । তাই সেই নিম পাতাগুলো গুড়া হয় ঠিকেই তবে পাতাগুলো চাকা চাকা বা জমে থাকে একে বাড়ে গুড়া হয় না । আর চালুনি ব্যবহার করলে দানাদার অংশ আলাদা হয়ে যায় এবং গুঁড়া হয় একদম ফাইন। এতে গুঁড়ো সম্পূর্ণ সমান ও মিহি হয়। যদি গুঁড়ো হালকা কালচে হয় তাহলে বুঝবেন অতিরিক্ত রোদ লেগেছে বা পাতা বেশি শুকিয়েছে। সবুজ মানেই ভালো। তাই একটুৃ দেখে নিন । গরম বা নরম অবস্থায় জারে রাখলে ভেতরে আর্দ্রতা তৈরি হয়। আমরা কি পাত্রে রাখব নিম পাতার গুড়া গুলো সেটা নিয়ে টেনশনে থাকি তাই না তাহলে ভালো করে এই লাইনটি পড়বেন । প্লাস্টিকের বক্সে আর্দ্রতা জমে যায়। কাঁচ বা স্টিলের বয়াম দীর্ঘসময় গুঁড়োকে ভালো রাখে। অল্প আর্দ্রতা থেকেও ফাঙ্গাস হয়ে গুঁড়া নষ্ট হতে পারে। অক্সিজেন কম পেলে গুঁড়ো দীর্ঘদিন ভালো থাকে। অন্ধকার জায়গায় রাখলে রং, গন্ধ, উপকারিতা দীর্ঘদিন বজায় থাকে। কারণ অন্ধকার জায়গা কোন রোদ জায় না তাই । সময় বাড়লে কার্যকারিতা কমতে থাকে—তাজা গুঁড়োই সবচেয়ে ভালো। অল্প পানি বা মধু দিয়ে ছোট গোল বল বানিয়ে রোদে শুকিয়ে নিলে দীর্ঘদিন খাওয়া যাবে। তারপরে দেখুন কি করবেন আপনিও ।

নিম পাতার বড়ি খাওয়ার উপকারিতা কি তা জানুন

আমাদের উপকারিতা জানার জন্য অনেকই কমেন্ট করে ছিলেন যে নিম পাতার গুড়া খেলে কি উপকারিতা জানাতে । আমাদের শরীরে মিন পাতা খেলে অনেক উপকার হয়ে থাকে আমি  একে একে বলি । নিম প্রাকৃতিক ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে। রক্ত ও লিভার পরিষ্কার করে, ফলে শরীর ভিতর থেকে সুস্থ থাকে। তা ছাড়াও আমাদের অনেক একটা সাধারণ কাজ হল রক্ত চলাচল । আমরা রক্ত পরিষ্কার রাখার জন্য অনেক কিছু খেযে তাকি কিন্তু আমরা জানি না যে নিম পাতার গুড়া খেলে যে আমাদের রক্ত পরিষ্কার হয় । নিয়মিত নিমের বড়ি খেলে রক্তে থাকা ক্ষতিকর জীবাণু ও নোংরা উপাদান দূর হয়, ত্বক পরিষ্কার ও ফাইন হয়।  আবার নিমের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ব্রণ, স্কিন ইনফেকশন, এলার্জি কমাতে অসাধারণভাবে কাজ করে। আবার যাদের মাতায় খুশকি তাদের জন্য এটা হতে পারে এমন একটা খাবার যা খেলে আপনার মাথার খুশকি থাকবে না আবার আপনার মাতার চুল যদি পড়ে যায় তাহলেও নিম পাতার গুড়া কাজে আসবে । তবে এটা সঠিক জানি না যে এটা নাকি ডায়বিটিক্সও কমাতে অনেক সহায্য করে থাকে । আর এটা আমিও দেখেছি ও আমার বোনের ও কাজে এসেছে আপনার পায়ে যদি কোন পুড়ি বা এলার্জি হয় তাহলে নিম পাতার গুড়া করে পানির সাথে মিশিয়ে সেই জায়গায় লাগিয়ে দিবেন তাহলে আশা করে ঠিক হয়ে যাবে কারণ এটা আমিও করে দেখেছি তাই বললাম ।

নিম পাতার গুড়া কিভাবে খাবেন ।

নিম পাতার গুঁড়া খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সকালে খালি পেটে এক গ্লাস সাধারণ পানির সাথে আধা চাচামচ গুঁড়া মিশিয়ে খাওয়া। চাইলে অল্প গরম পানিতেও নিতে পারেন, এতে হজমে আরাম হয়। অনেকে ক্যাপসুল বা বড়ির মতো বানিয়ে খায়, সেটাও ভালো, তবে পরিমাণ যেন বেশি না হয়। খুব তেতো লাগলে সামান্য মধুর সাথে মিশিয়েও খাওয়া যায়। নিয়মিত খেতে চাইলে সপ্তাহে ৪–৫ দিন খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়, কারণ এটি খুব শক্তিশালী হার্ব। যাদের গ্যাস্ট্রিক, লিভার বা প্রেসারের সমস্যা আছে, তারা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত। আপনাদের মাঝে অনেই জানতে চেয়েছিলেন একবার নিম পাতা গুড়া করে কয় দিন খাওয়া যাবে তাদের জন্য আমি বলি যত দিন রেখে খাবেন তত সেই নিম পাতার ক্ষমতা কমে যাবে তাই ২ সপ্তাহ পরে পরে গুড়া করে নিবেন ।
আবার দেখে নিতে পারেন:এখন আমি কিছু কথা বলি যাদের বাসায় নিম পাতার গাছ আছে তারা গুড়া না করে প্রতিদিন সকালে উঠে গাছ থেকে তাজা পাতা ছিবিয়ে খাবেন । আর যারা আমার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন আমি কেন দেরি করে আপনাদের জন্য ব্লগ দিতে আমি আগেও বলেছি যে আমার পরিক্ষা ছিল তাই একটু দেরি হয়েছে ।এখন ছেকে প্রতিদিন ব্লগ দেয়ার চেষ্টা করব । আর কাদের বাসায় নিম গাছ আছে ও প্রতিদিন নিম পাতা খান তারা কমেন্ট এ একটু সারা দিন দেখব এখানে কে কে নিম পাতা খায় ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url