পৃথিবীর ১০ জন ধনী ব্যক্তি ও তাদের জীবন কাহিনী
আপনি কি জানতে চান যে পৃথিবীর ১০ জন ধনী ব্যাক্তি ও তাদের কিছুটা জীবন কাহিনী তারা কি দিয়ে বেশি জনপ্রিয় হয়েছেন তা জানবেন ।
যারা বিশ্ব বা পৃথিবীর ধনী লোক তারা কে তা জানতে পারাবেন আজকে । মানে পৃথিবীর ১০ জন ধনী ব্যক্তি ও তাদের জীবন কাহিনী, তাহলে এটা অনেক মজাদার হতে চলেছে । তবে আমি আগের বলে নেই যে এই আজকের যে ব্যক্তির জাবন কাহিনী বলব তাদের জবন কাহিনী অনেক বড় বড় হতে পারে তাই একটু কষ্ট করে পড়ে নিবেন সূচিপত্র টা তাহলে আপনাদের জানতে বেশি সময় লাগবে না ।
সূচিপত্র:এখন থেকে দেখে নিন সূচিপত্রটা তাহলে আপনাদের কম সময় লাগতে পারে ।
প্রথম ধনী ব্যাক্তি হলেন ইলন মাস্ক
ইলন মাস্ক হলেন এমন একজন মানুষ বা ব্যক্তি যে আমরা যা ভাবতেই পারি না সেই কাজ গুলো তিনি করে দেখান । যখন কম্পিউটারের ছোয়া আসে তখন সময় ইলন মাস্ক একটা গেম বানিয়ে ফেলেন । তারপর আমাদের মাথায় কি কখনও এসেছিল চাঁদে যাওয়া যাবে তিনি সেটাও দেখিয়ে দিয়েছেন ইলন মাস্ক। ইলন মাস্ক বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তার সম্পদের পরিমাণ সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়, তবে সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী তিনি প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার বা তার বেশি সম্পদের মালিক, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬০ লাখ কোটি টাকারও বেশি। ইলন মাস্ক বিশ্বের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক। তিনি তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন Zip2 এবং PayPal-এর মাধ্যমে, যা তাকে প্রথম বড় অর্থ এনে দেয়। পরে তিনি SpaceX প্রতিষ্ঠা করে মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটান, Tesla-এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং সৌর শক্তি শিল্পে নতুন দিগন্ত তৈরি করেন। এছাড়াও তিনি Neuralink, The Boring Company এবং Starlink-এর মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা এবং প্রযুক্তিকে উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার সাহসী ঝুঁকি নেওয়া, বড় ভিশন এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা তাকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন করে তুলেছে। তবে আরেকটা কথা বলে রাখি যে ইলন মাস্ক ১৯৭১ সালের ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায়ই তিনি কম্পিউটার এবং প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন এবং মাত্র ১২ বছর বয়সে একটি ভিডিও গেম তৈরি করে বিক্রি করেছিলেন। তার বাবা-মায়ের সমর্থন এবং প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তাকে ভবিষ্যতে বড় উদ্যোক্তা এবং উদ্ভাবক হতে সাহায্য করে। এটাই ছিল ইলন মাস্ক এর ছোট একটা জীবন কাহিনী তবে ইলন মাস্ক এর জীবন কাহিনী টা অনেক বড় তবে আমরা যতটা পেরেছি ছোট করে লেখার চেষ্টা করেছি ।
দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি হলেন জেফ বেজোস
জেফ বেজোসকে আমরা অনেকই নাও চিনতে পারি তবে তার যে একটা কম্পানি সেটা বিশ্বের প্রায় সব মানুষই চিন থাকবে সেটা হলো Amazon । জেফ বেজোস ১৯৯৪ সালে অ্যামাজন (Amazon) কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এটি ছিল অনলাইন বুকস্টোর, যা ধীরে ধীরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়। জেফ বেজোস ২০১৩ সালে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ক্রয় করেছিলেন, যা তাকে সাংবাদিকতা ও মিডিয়ার জগতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দেয়। বেজোস জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৪ সালের ১২ জানুয়ারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে। তিনি প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তড়িৎ প্রকৌশল (Electrical Engineering) এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান (Computer Science) এ ব্যাচেলর অব সায়েন্স (B.Sc.) ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনে তার এই পেশাগত দক্ষতা এবং প্রযুক্তি প্রতি আগ্রহ পরবর্তীতে তাকে ব্যবসা ও উদ্ভাবনে সফল হতে সাহায্য করে। ২০১৯ সালে ফোর্বসের বিশ্ব ধনী তালিকায় জেফ বেজোস প্রথম স্থানে ছিলেন। এই সময়ে তিনি প্রায় ১৩১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মালিক ছিলেন, যা প্রায় চৌদ্দ লক্ষ সাত হাজার কোটি টাকার সমান। তার পরিবারও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরিবারগুলোর মধ্যে গণ্য হতো। তবে সময়ের সাথে সাথে তিনি ধীরে ধীরে তার সক্রিয় কাজ থেকে সরে আসতে থাকেন, যার ফলে তার সম্পদের পরিমাণও কিছুটা কমে যায়। বর্তমানে তিনি অ্যামাজনের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যদিও তিনি আর কোম্পানির প্রধান নির্বাহী (CEO) নন। তবে কয়েক বছর আগেও তিনি বিশ্বের সব থেকে ধনী ব্যাক্তি ছিলেন ।
তৃতীয় ধনী ব্যক্তি হলেন বার্নার্ড আর্নল্ট ও তার পরিবার
আমাদের যে তৃতীয় ধনী ব্যক্তি সেটা একজন মানুষ নয় তার পরিবার কেও হিসেব করা হয় তবে তার পরিবার চারাও বার্নার্ড আর্নল্ট তৃতীয় ধনী ব্যক্তি । বার্নার্ড আর্নল্ট জন্মগ্রহণ করেন ৫ মার্চ ১৯৪৯ সালে, ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলের Roubaix নামের একটি শিল্পনগরীতে। তাঁর জন্ম একটি সাধারণ কিন্তু শিক্ষিত পরিবারে, যেখানে ব্যবসা ও শৃঙ্খলার পরিবেশ ছিল প্রধান বিষয়। তাঁর বাবা একজন নির্মাণ–সম্পর্কিত ব্যবসার মালিক ছিলেন, আর এই পরিবারিক ব্যবসার পরিবেশেই ছোটবেলা থেকেই বার্নার্ড ব্যবসার প্রতি আগ্রহ গড়ে তোলেন। শৈশবে তিনি অত্যন্ত শান্ত, বুদ্ধিমান ও সৃজনশীল ছিলেন। খুব ছোটবেলা থেকেই গণিত, সংগঠন পরিচালনা এবং বিশ্লেষণী চিন্তায় তিনি বিশেষ দক্ষতা দেখাতেন। পরবর্তীতে এই দক্ষতাই তাকে বিশ্বের অন্যতম সফল ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বার্নার্ড আর্নল্ট মূলত বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের ব্যবসায়ী, যিনি বিশ্বের সবচেয়ে বড় লাক্সারি গ্রুপ LVMH (Louis Vuitton Moët Hennessy)-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হিসেবে কাজ করেন। তাঁর ব্যবসায় রয়েছে ফ্যাশন, পারফিউম, ঘড়ি, জুয়েলারি, ওয়াইন ও অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের বিলাসবহুল পণ্য, যার মধ্যে Louis Vuitton, Dior, Fendi, Tiffany & Co., Sephora, TAG Heuer, Moët & Chandon ও Hennessy-এর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড অন্তর্ভুক্ত। তিনি এসব ব্র্যান্ডকে এক ছাতার নিচে এনে একটি বিশাল গ্লোবাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, যা তাকে বিশ্বের অন্যতম সফল ও ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। বার্নার্ড আর্নল্ট (Bernard Arnault) বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি, যার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪৮.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বার্নার্ড আর্নল্টের পরিবারের তথ্য
যেহেতু তার সাথে তার পরিবারও আছে তাই আমরা চলুন একটু তার পরিবার সম্পর্কেও জেনে আসি ।আর্নল্টের পাঁচজন সন্তান আছে—ডেলফিন আর্নল্ট, অ্যান্টয়ান আর্নল্ট, আলেক্সান্দ্রে আর্নল্ট, ফ্রেডেরিক আর্নল্ট এবং জঁ আর্নল্ট। তাঁর বড় দুই সন্তান ডেলফিন ও অ্যান্টয়ান LVMH গ্রুপে শীর্ষ পদে কাজ করেন এবং ব্যবসা পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বাকি তিন সন্তানও Louis Vuitton, Tiffany & Co. এবং পুরো LVMH সাম্রাজ্যের বিভিন্ন বিভাগে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। আর্নল্ট পরিবারের পাঁচ সন্তানই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড পরিচালনায় দক্ষ, এবং ভবিষ্যতে তারা LVMH এর ঐতিহ্য ও সাম্রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হয়। ভাই যাদের হয় তাদের শুদু হয়তেই থাকে । এটাই ছিল বার্নার্ড আর্নল্ট এর পরিবারের তথ্য তরারও পৃথিবীর ১০ জন ধনী ব্যক্তির মধ্যেও পরে থাকে । তবে তার টাকার পরিমাণ কমতে ও বাড়তে পারে ।
চতুর্থ ধনী ব্যক্তি হলেন স্টিভ বালমার
স্টিভ বালমার তিনি কোন নামি দামি কম্পানি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন নি তিনি চাকরি করে ইনকাম করেছেন । তিনি মাইক্রোসফট এর প্রক্তন CEO ও তিনি এখন ও মাইক্রোসফটে কাজ করে থাকেন । স্টিভ বালমার মূলত মাইক্রোসফটের সিইও হিসেবে তার দায়িত্বের মাধ্যমে অর্থ আয় করেছেন; তিনি কোম্পানিতে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মরত ছিলেন এবং বড় স্টক অপশন ও শেয়ার হোল্ডিং থেকে কোটি কোটি ডলার ইনকাম করেছিলেন। এছাড়া, তিনি মাইক্রোসফটের শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বিশাল অর্থ লাভ করেছেন। পরবর্তীতে, বালমার স্পোর্টস খাতে বিনিয়োগও করেছেন, যেমন NBA-এর লস এঞ্জেলেস ক্লিপার্সের মালিক হওয়া, যা তার সম্পদ আরও বৃদ্ধি করেছে। মোটের উপর, তার আয় এসেছে মূলত মাইক্রোসফটের চাকরি, শেয়ার ও বিনিয়োগ থেকে। স্টিভ বালমার ১৯৫৬ সালের ২৪ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের ডিট্রয়েট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান ছিলেন । স্টিভ বালমারের সম্পদের পরিমাণ সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তবে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১৮ থেকে ১৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মধ্যে রয়েছে। তবে তার টাকার পরিমাণ কমতে ও বাড়তে পারে ।
পঞ্চম ধনী ব্যক্তি হলেন বিল গেটস
আপনি যদি ৮ থেকে ১০ বছর আগে কেউকে বলতেন পৃথিবীর সব থেকে ধনী লোককে সাবাই বলতো যে বিল গেটস । এখন ও একটু বয়স্ক লোকদের বলেন যারা মোবাইল চালায় না তাদের কে বলেন যে বিশ্বের সব থেকে ধনী লোককে বলবে বিল গেটস । বিল গেটস হলেন একজন প্রখ্যাত মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও সমাজসেবক, যিনি ১৯৭৫ সালে পল অ্যালেনের সঙ্গে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। মাইক্রোসফটের Windows অপারেটিং সিস্টেম এবং Microsoft Office সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কম্পিউটারের বাজারে বিপ্লব ঘটায়। তার সৃজনশীল নেতৃত্ব, প্রযুক্তিতে আগ্রহ এবং সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের কারণে কোম্পানি দ্রুত সমৃদ্ধি লাভ করে, এবং শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধি পেলে তার ব্যক্তিগত সম্পদও অসীমভাবে বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও, বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হিসেবে রয়ে গেছেন। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী তার মোট সম্পদ প্রায় ১২,৪০০ কোটি থেকে ১৩,৮০০ কোটি মার্কিন ডলার বা ১৩-১৫ লাখ কোটি টাকা । বিল গেটস এক সময় বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ছিলেন, তবে এখন তিনি পঞ্চম স্থানে আছেন। এর প্রধান কারণ হলো তিনি তার সম্পদের বড় অংশ বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে দান করেছেন, যা স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও দারিদ্র্যনিমূলক কাজের জন্য ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়াও, মাইক্রোসফটের শেয়ারের মানের ওঠা-নামা এবং নতুন প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের, যেমন ইলন মাস্ক ও জেফ বেজোসের দ্রুত বৃদ্ধি, তাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। এই সব কারণে বিল গেটস এখনও বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি হলেও আগের তুলনায় তার ব্যক্তিগত সম্পদ কমে পঞ্চম স্থানে এসেছে।
ষষ্ঠ ধনী ব্যক্তি হলেন ওয়ারেন বাফেট
ওয়ারেন বাফেট হলেন একজন প্রখ্যাত আমেরিকান ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং ফিলানথ্রপিস্ট। তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত “ওমাহার ওরাকল” হিসেবে, কারণ তিনি ওমাহা, নেব্রাস্কা শহর থেকে তাঁর ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেন। বাফেট মূলত বিনিয়োগের মাধ্যমে সম্পদ সঞ্চয়ে অত্যন্ত সফল। তিনি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের (Berkshire Hathaway) চেয়ারম্যান এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ওয়ারেন বাফেট জন্মগ্রহণ করেন ১৯৩০ সালের ৩০ আগস্ট আমেরিকার নেব্রাস্কা রাজ্যের ওমাহা শহরে। তিনি ছোটবেলা থেকেই ব্যবসায় এবং বিনিয়োগে আগ্রহী ছিলেন। ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত তার মোট সম্পদ প্রায় ১৬০.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হিসাব করা হয়েছিল। সেই সময়ে ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিশ্বের পঞ্চম ধনী ব্যক্তি হিসেবে স্থান করেছিলেন। বাফেটের বিশাল সম্পদের মূল কারণ তার দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নীতি এবং বিভিন্ন শিল্পে সফল ব্যবসায়িক উদ্যোগ। তবে, তার সম্পদের পরিমাণ স্থির নয়। বাজারের ওঠানামা, শেয়ারের মূল্য পরিবর্তন এবং তার বহুমুখী বিনিয়োগ প্রকল্পের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে তার সম্পদের মান সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়। এটি বোঝায় যে, যদিও বাফেটের নাম ধনী ও সফল ব্যক্তিদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে, তার সম্পদও বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিবর্তিত হতে পারে।
সপ্তম ধনী ব্যক্তি হলেন মার্ক জাকারবার্গ
আমরা অনেকই মার্ক জাকারবার্গকে চিনি যারা চিনে না তাদের কে বলি আপনারা যে ফেসবুক ব্যবহার করেন সেই ফেসবুকটা তৈরি করেছেন মার্ক জাকারবার্গ । মার্ক জাকারবার্গ ১৯৮৪ সালের মে ১৪ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক রাজ্যের ডয়েচেস্টার শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন প্রখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং ফেসবুক (বর্তমানে মেটা) এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। মার্ক জাকারবার্গের জনপ্রিয় কাজের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৪ সালে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফেসবুক তৈরি করা, যা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে উঠেছে। এরপর তিনি ফেসবুককে মেটা (Meta) হিসেবে রিব্র্যান্ড করে মেটাভার্স এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির দিকে মনোনিবেশ করেছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম অধিগ্রহণ ও সম্প্রসারণ করেছেন। এছাড়াও তিনি সামাজিক যোগাযোগ, বিজ্ঞাপন এবং তথ্য ভাগাভাগিতে নতুন উদ্ভাবন এনেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি তার স্ত্রী প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে “Chan Zuckerberg Initiative” প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় বিনিয়োগ করছে। মার্ক জাকারবার্গের সম্পদের পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ এটি বাজারের ওঠানামার সঙ্গে ক্রমাগত পরিবর্তিত হয়। তথাপি, ২০২৩ সালের শেষ থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার মোট সম্পদ প্রায় ২০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পৌঁছায়, যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির মধ্যে অবস্থান করায়। ২০২২ সালে যদিও তার সম্পদ কিছুটা হ্রাস পেয়েছিল, কিন্তু মেটার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি এবং কোম্পানির শক্তিশালী ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের কারণে তার সম্পদ পুনরায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তার আর্থিক প্রভাব এবং বৈশ্বিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।এটাই ছিল আমাদের মার্ক জাকারবার্গ এর জীবন কাহেনী তাহলে জানাবেন মার্ক জাকারবার্গ এর তথ্যটা আপনাদের কেমন লেগেছে ।
অষ্টম ধনী ব্যক্তি হলেন ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন
ল্যারি পেজ
ল্যারি পেজ কে আমরা না চিনলেও তার তাদের কম্পানির নাম হয় কেউর না জানা নয় । ল্যারি পেজ এর কম্পানির নাম হল গুগল । হয়তো আপনিও গুগল দিয়ে আমার ব্লগটা পড়তেছেন কারণ গুগল ব্লগার দিয়ে আমার ওয়েবসাইট তৈরি করা । ল্যারি পেজ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৩ সালের ২৬ মার্চ, মিয়োন্টেন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে। ল্যারি পেজের শিক্ষা জীবন প্রযুক্তি এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানের দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের ইস্ট ল্যানসিংয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন, এরপর মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি-তে কম্পিউটার সায়েন্সে পিএইচডি শুরু করেন, এবং এখানেই সের্গেই ব্রিনের সঙ্গে মিলে ১৯৯৮ সালে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন। ল্যারি পেজের সম্পদের পরিমাণ সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়, তবে ২০২৩-২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী তিনি বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তার মোট সম্পদ প্রায় $100 বিলিয়ন থেকে $200 বিলিয়নের মধ্যে ছিল, এবং সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী এটি প্রায় $202.2 বিলিয়ন (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৭.৫ লাখ কোটি) বা $159 বিলিয়ন ডলারের মতো ছিল, যা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে সহায়তা করেছে। যেহেতু আমরা ল্যারি পেজের কথা তুলেছি তখন সময় তার বন্ধু বা বিজনেস পাটনার সের্গেই ব্রিন এর কথা না বলেই নয় তাহলে দেখি চলুন ।
সের্গেই ব্রিন
গুগল একা ল্যারি পেজ প্রতিষ্টা করেননি; তিনি এর সাথে ছিলেন সের্গেই ব্রিন। এখন আমরা দেখব সের্গেই ব্রিনের তথ্য সের্গেই ব্রিন জন্মগ্রহণ করেন ১৯৭৩ সালের ২১শে আগস্ট, সোভিয়েত ইউনিয়নের মস্কোতে। সের্গেই ব্রিন একজন প্রখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানী, যিনি ল্যারি পেজের সঙ্গে মিলে গুগল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গুগল আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন, যা শুধু তথ্য অনুসন্ধান নয়, বিজ্ঞাপন, ক্লাউড সার্ভিস, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সংক্ষেপে, সের্গেই ব্রিন গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন সফল প্রযুক্তি উদ্ভাবক হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তার সম্পদের পরিমাণ সময়ের সঙ্গে ক্রমাগত পরিবর্তিত হলেও, ২০২৩ সালের শেষ থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, তার মোট সম্পদ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং এটি তাকে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের অন্যতম করে তুলেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১৫ থেকে ১৪৪ বিলিয়ন ডলার বা তারও বেশি হতে পারে। তাহলে দেখলেন গুগলেন দুটি প্রতিষ্টাতা যারা প্রথম থেকে গুগলের সাথে ছিল ।
নবম ধনী ব্যক্তি হলেন মার্ক কুবান
মার্ক কুবান একজন প্রখ্যাত মার্কিন ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব। তিনি ১৯৫৮ সালের ৩১শে জুলাই পেনসিলভেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। মার্ক কুবান মূলত তার ধনী হওয়ার সূত্র হিসেবে ব্যবসা বিক্রি, বিনিয়োগ ও স্পোর্টস দল থেকে আয় করেন। তিনি Broadcast বিক্রি করে বড় অঙ্কের অর্থ পান, বিভিন্ন স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেন এবং “Shark Tank” শোয় অংশ নিয়ে নতুন ব্যবসা থেকে লাভ পান। এছাড়া তিনি ডালাস মেভেরিকস এনবিএ দলের মালিক হিসেবে দল, বিজ্ঞাপন ও মেমোরাবিলিয়া বিক্রি থেকে অর্থ উপার্জন করেন এবং মিডিয়া, টেলিভিশন প্রজেক্ট ও ব্যবসায়িক বক্তৃতা থেকে অতিরিক্ত আয় পান। মার্ক কুবানের সম্পদের পরিমাণ সময় ও বাজারের ওঠানামার কারণে পরিবর্তিত হয়। তবে ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী তার মোট সম্পদ প্রায় ৫৭–৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলায় এটি প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার কোটি থেকে ৬ লাখ কোটি টাকা। তাহলে তো দেকলেন নবম অবস্থানে কে আছে এখন দেখব দশম ।
দশম ধনী ব্যক্তি হলেন মুকেশ আম্বানি
মুকেশ আম্বানি হলেন ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী শিল্পপতিদের একজন, যিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি শুধু ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে নয়, প্রযুক্তি, টেলিকম, খুচরা এবং ডিজিটাল সেক্টরে বিপ্লব ঘটানোর জন্যও সুপরিচিত। মুকেশের নেতৃত্বে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ শুধু ভারতের নয়, বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি হয়ে উঠেছে। তিনি ১৯৫৭ সালের ১৯ এপ্রিল মুম্বাইতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ধীরাজমাল আম্বানি ছিলেন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, যিনি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। মুকেশ আম্বানি ছোট বয়স থেকেই পিতার ব্যবসায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নিজের অনন্য দক্ষতা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে কোম্পানিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছেন। মুকেশ আম্বানি শুধু ব্যবসায়িক সফলতার জন্য নয়, তার দাতব্য কাজের জন্যও প্রসিদ্ধ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। তিনি স্ত্রী নীতা আম্বানি এবং তিন সন্তান আকাশ, ইশা ও অনন্ত এর সঙ্গে মুম্বাইতে বসবাস করেন। মুকেশ আম্বানির সম্পদের পরিমাণ সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হলেও, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী তার মোট সম্পদ প্রায় $108 বিলিয়ন থেকে $113 বিলিয়ন (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ থেকে ১০ লক্ষ কোটি টাকা) বা তারও বেশি হিসেবে ধরা হয়েছে। এই বিশাল সম্পদ তাকে শুধু এশিয়ার নয়, বিশ্বব্যাপী অন্যতম ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় শীর্ষে রেখেছে। মুকেশের আর্থিক প্রভাব এবং ব্যবসায়িক ক্ষমতা তাকে বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং অর্থনৈতিক নেতাদের মধ্যে একটি অনন্য স্থান প্রদান করেছে।
POST DISCLAIMER
এই পোস্টে প্রদর্শিত তথ্যসমূহ পৃথিবীর ১০ জন ধনী ব্যক্তি ও তাদের জীবন কাহিনী, মোট সম্পদ এবং আয়ের পরিমাণ সম্পর্কিত। উল্লেখ্য, তাদের সম্পদ ও আয়ের পরিমাণ সময়ের সাথে বৃদ্ধি বা হ্রাস পেতে পারে। এখানে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক ধারণা দেওয়ার জন্য, এবং এটি সর্বদা সঠিক বা আপডেটেড নাও হতে পারে।
